নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ১ এপ্রিল ২০২৬, গৌরব ও ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করল উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা সিরাজগঞ্জ। ১৯৮৪ সালের এই দিনে মহকুমা থেকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক স্বীকৃতি পায় সিরাজগঞ্জ। সেই হিসেবে আজ জেলাটি ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।
সিরাজগঞ্জের ইতিহাস আরও পুরনো। ১৮৪৫ সালে এটি প্রথম মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তখন এটি পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর অঞ্চলটি পূর্ব পাকিস্তানের অংশে অন্তর্ভুক্ত হয়। দীর্ঘ পথচলার পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। এরপর ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলায় ৯টি উপজেলা রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এই জেলা।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সিরাজগঞ্জ বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। দেশের তাঁত শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এটি সুপরিচিত। এখানে উৎপাদিত শাড়ি ও কাপড় দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু এই জেলার মর্যাদাকে আরও বৃদ্ধি করেছে, যা উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছে।
খাদ্য ঐতিহ্যের দিক থেকেও সিরাজগঞ্জের রয়েছে আলাদা খ্যাতি। পানতুয়া মিষ্টি এবং সলপের বিখ্যাত ঘোল স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছেও সমান জনপ্রিয়।
৪২ বছরের এই পথচলায় সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা, যোগাযোগ, শিল্প ও কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন ও সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন