, বাংলাদেশ |

শীর্ষ খবর

সিরাজগঞ্জে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস আজ, অবহেলায় স্মৃতিস্তম্ভ।


 

নিউজ ডেস্ক: স্মৃতি টিভি 


আজ ২৪ এপ্রিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সিরাজগঞ্জ জেলার জন্য একটি গৌরবময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে উল্লাপাড়া উপজেলার ঘাটিনা রেল সেতু এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল জেলার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ। তবে ঐতিহাসিক সেই স্থানটি এখন অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে।

১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে ঈশ্বরদী থেকে ট্রেনে করে পাকিস্তানি বাহিনী সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আগাম খবর পেয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা করতোয়া নদীর ওপর ঘাটিনা রেল সেতুর কয়েকটি রেললাইন খুলে নদীতে ফেলে দেন এবং প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেন। সে সময় মহকুমা প্রশাসক এ কে এম শামসুদ্দিন এবং ছাত্রনেতা আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সেতুর পূর্ব প্রান্তে অবস্থান নেন।

পাকবাহিনীর ট্রেনটি সেতুর কাছে পৌঁছালে মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিত হামলা চালান। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী তুমুল গোলাগুলিতে পাকবাহিনীর কয়েকজন নিহত হয় এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনাই ছিল সিরাজগঞ্জ জেলার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ, যা পরবর্তীতে পুরো অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় উল্লাপাড়ার ঘাটিনা শাহজাহানপুর ২০১৯ সালে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্মৃতিস্তম্ভটি এখন অবহেলায় পড়ে আছে।

এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, তিনি বলেন ঘাটিনা রেল সেতুর এই জায়গাটা আমাদের জন্য শুধু একটি স্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও গর্বের প্রতীক। ১৯৭১ সালে আমরা জীবন বাজি রেখে এখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্মৃতিস্থান আজ অবহেলায় পড়ে আছে। দ্রুত এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে নতুন প্রজন্ম এখানে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারে।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে সংস্কার করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন