বর্তমান সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—বিশেষ করে স্কুলগুলো—ধীরে ধীরে শিক্ষার মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরির প্লাটফর্মে রূপ নিচ্ছে। পাঠদানের পরিবেশে মনোযোগের বদলে ক্যামেরার উপস্থিতি, ক্লাসরুমে শৃঙ্খলার বদলে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশ অভিযোগ করছে—স্কুলের ভেতরে ক্লাস চলাকালীন বা বিরতিতে ভিডিও ধারণ, নাচ-গান, রিলস তৈরি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার প্রস্তুতির বদলে ট্রেন্ড অনুসরণে বেশি সময় ব্যয় করছে। এতে পড়াশোনার মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি নৈতিকতা ও শালীনতার প্রশ্নও উঠছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাই শিক্ষা ও শৃঙ্খলা শেখার জন্য। কিন্তু তারা ফিরছে নতুন নতুন ট্রেন্ড আর ভিডিও বানানোর গল্প নিয়ে।”
একজন শিক্ষক জানান, “ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা জরুরি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজে কোনো সমস্যা নয়; কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্কুল চত্বরে মোবাইল ব্যবহারের স্পষ্ট নীতিমালা, সচেতনতা কার্যক্রম এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই প্রবণতা রোধ করা কঠিন।
এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা প্রশাসন ও অভিভাবকদের প্রতি জোরালো আহ্বান—স্কুলকে আবার শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ চর্চার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে “শিক্ষার আলো” ম্লান হয়ে যাবে “ভাইরাল” আলোয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন