মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ:
ধর্মীয় আলোচক বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকা।
মানুষের চরিত্র ও ব্যবহারের আসল প্রকাশ ঘটে তার নিকটতম সম্পর্কের মাধ্যমে। আর সেই নিকটতম সম্পর্ক হলো স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন। ইসলামে স্ত্রীকে শুধু সংসারের অংশ হিসেবে নয়, বরং জীবনের সহযাত্রী হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তাই স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণ করা শুধু একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি ইমানের নিদর্শন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা নিসা: ১৯)
এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পুরুষদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা স্ত্রীদের সঙ্গে কোমলতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে আচরণ করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করি।” (তিরমিজি)
বর্তমান সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে অহংকার, অবহেলা ও কঠোরতার কারণে সংসারে অশান্তি জন্ম নেয়। অথচ নবী করিম (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, হাসিমুখে কথা বলা, সহানুভূতি দেখানো এবং পরস্পরের প্রতি ধৈর্য ধারণ করা ইবাদতেরই অংশ।
একজন মুসলমানের উচিত—
স্ত্রীর প্রতি ন্যায় ও দয়া প্রদর্শন করা,
তার পরিশ্রম ও অবদানের কদর করা,
ভুল হলে ক্ষমা করা এবং সব বিষয়ে পারস্পরিক পরামর্শ করা।
যে স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করে, সে শুধু সংসারে নয়, আল্লাহর কাছেও সম্মানিত হয়। কারণ উত্তম চরিত্রই প্রকৃত মুসলমানের অলঙ্কার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন